মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) ব্যানারে চলা এই বিক্ষোভে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে এক বিশেষ ঘোষণায় প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত বিচারে বিশেষ আদালত গঠনের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না! প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আন্দোলন আরও বেগবান হওয়ায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)।
বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে— লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকহাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।
হঠাৎ করে স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় হাজার হাজার অফিসগামী চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বাস কিংবা ট্যাক্সিক্যাব ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
যন্তর মন্তরে সিজেপির নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলন ঘিরে বর্তমানে পুরো দিল্লিতে চরম উত্তেজনা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রয়েছে।
জেএস